শরীফ বিজয়ী :পাবনার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

0
1761

পাবনার কণ্ঠ ডটকম:

পাবনা সদর পৌরসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে।নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। নতুন পৌর পিতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শরিফ উদ্দিন প্রধান। তিনি নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯ শত ৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৮শ ৪৭ ভোট। বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছে ৭ হাজার ৫শ ৪ ভোট। মাত্র ১২২ ভোটে নারিকেলের কাছে ডুবেছে নৌকা।

এই নির্বাচনে যেভাবে প্রচারণা হয়েছে, উত্তাপ ছড়িয়েছে, ব্যালটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাবনা শহরের রাজনীতিতে একটা নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে পাবনার রাজনীতিতে এই মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।

রাজনৈতিক মেরুকরণের বিশেষ দিক গুলোর মধ্যে রয়েছে: পাবনা সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। ১৮ আওয়ামী লীগ নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। একই সাথে পাবনা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেনকে বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

শোকজের নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বাবু, আব্দুল হামিদ মাস্টার, যুগ্ম সম্পাদক আবু ইসাহাক শামীম, এডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বারী বাকী, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু, প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, ধর্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, শ্রম সম্পাদক সরদার মিঠু আহমেদ, কার্যকরী সদস্য ইমদাদ আলী বিশ্বাস, উপদেষ্টা ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, আসম আব্দুর রহিম পাকন, লিয়াকত আলী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মামুন। এ সকল নেতারা নতুন কমিটিতে স্থান পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনির সমর্থকরা নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি রয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীকে যারা বাইরের উপজেলা থেকে মদদ দিয়েছেন তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে। নৌকার পরাজয়ের কারণও ক্ষতিয়ে দেখা হবে। যিনি বিজয়ী হয়েছেন তাকে দল গ্রহণ করবে কিনা তা সেটা এখন দেখার বিষয়। অনেক বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেনি। পাবনায় একাধিক ভিআইপি কেন্দ্রীয় নেতারা নৌকার পক্ষে প্রচারণা করে হেরেছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি শেখ ফাহিম ( শেখ সেলিম পুত্র) পাবনায় এসে নৌকার প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ,মাছরাঙা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান স্কয়ার ও গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপির ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত  আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি । যারা তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন তারা ভুল করেননি। কারণ তিনি সামান্য ভোটে হেরে গিয়েছেন। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসের এলাকায় ধানের শীষ খারাপ করেছেন। বিএনপির ভোট কোথায় গেলো সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিএনপির নেতারা কি করেছেন তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। বর্তমান মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু বিএনপির ছিলেন। তিনি সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তাবে পাবনায় আওয়ামী রাজনীতিতে কারও একক প্রভাব নাও থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here