পাবনার কন্ঠ ডেস্ক: পহেলা ফাল্গুন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস—দুটি দিন একসঙ্গে এলে সাধারণত পাবনার আকাশে ভেসে ওঠে হলুদ-লাল রঙের উচ্ছ্বাস। শহরের পার্ক, ক্যাফে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ভরে ওঠে তরুণ–তরুণীদের পদচারণায়। তবে এবার চিত্রটা ছিল কিছুটা ভিন্ন।
সম্প্রতি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও সার্বিক পরিস্থিতির কারণে পাবনায় বড় পরিসরে কোনো বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান বা ভালোবাসা দিবসের আয়োজন হয়নি। জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দেখা যায়নি আগের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজন। ফলে শহরজুড়ে ছিল এক ধরনের সংযত আবহ।
তবুও দিনটি একেবারে নিরানন্দ কাটেনি। ব্যক্তিগতভাবে অনেক তরুণ–তরুণী নিজেদের মতো করে দিনটি উদযাপন করেছেন। কেউ বন্ধুদের নিয়ে ছোট পরিসরে আড্ডা দিয়েছেন, কেউ প্রিয় মানুষকে ফুল উপহার দিয়েছেন, কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করেছেন। শহরের কয়েকটি ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টে ছিল সীমিত উপস্থিতি, তবে আগের বছরের তুলনায় তা ছিল অনেকটাই কম।
পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ও বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বড় কোনো আয়োজন না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, “দেশের বড় একটি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, তাই এবার হয়তো উৎসবটা একটু চুপচাপ। তবে আমরা নিজেদের মতো করে বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেছি।”
শহরের কিছু এলাকায় দেখা গেছে কয়েকজন তরুণী হলুদ শাড়িতে, তরুণরা পাঞ্জাবিতে সজ্জিত হয়ে ছবি তুলছেন। তবে নেই আগের মতো শোভাযাত্রা, নেই গান-বাজনার আয়োজন বা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, এবার পাবনায় পহেলা বসন্ত ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ছিল সীমিত, সংযত ও ব্যক্তিগত আয়োজনে ঘেরা। বড় আয়োজনের অনুপস্থিতিতেও ভালোবাসা আর বসন্তের রং হৃদয়ের ভেতরেই রয়ে গেছে—নীরবে, ব্যক্তিগত অনুভবে।