নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন পাবনার কৃতি সন্তান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

শেয়ার করুন

নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি। প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের কম-বেশি দেশি-বিদেশি এক হাজার অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ। এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। নতুন সরকারে তালিকায় কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করেছে বিএনপি। এবারে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নতুন প্রজম্মের এমপিদের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ-সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন তাদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছে,প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের প্রেসিডেন্ট নিয়োগদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হতে মনোনীত হতে পারবেন। মন্ত্রিসভা ৪৫ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে।

গতকাল শনিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি জানান, নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তুতি আছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর তাদের শপথের আয়োজন করবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদ সদস্যদের শপথের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। গত শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম–২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাদের শরিকরা পেয়েছে তিনটি আসন।

গতকাল সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা ইনকিলাবকে বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। গত শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হচ্ছে না। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৭৭ আসন। ইতিমধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

অপরদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, খুব দ্রুত সবার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেরি হলেও ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, শপথ কে পড়াবেন তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

জানা গেছে, এবারে সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার আকার বেশি বড় হবে না। ৩৫ থেকে ৪৫ সদস্যের মধ্যে থাকতে পারে মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষ করেছেন। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে তা সংসদের শপথের পরে প্রেসিডেন্টকে তালিকা পাঠানো হবে। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলীয় প্রধান। বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এছাড়া সংসদ-সদস্যেদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের দলের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে তা এখনো বলা যাবে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও প্রফেসর এজেডএম জাহিদ হোসেন, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মো. শাজাহান, ড রেজা কিবরিয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন। এ ছাড়াও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, একটি পত্রিকার সম্পাদক, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক প্রফেসর মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্ব পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, খায়রুল কবির খোকন, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন,নুরুল ইসলাম মনি,এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। এছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে নান গুঞ্জন রয়েছে। মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরকেও মন্ত্রিসভায় স্থান না পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

(Visited 26 times, 1 visits today)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *