যমুনা ও পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রেলপথ চালু হলেও লোকো (ইঞ্জিন) ও কোচ সংকটের কারণে পর্যাপ্ত আন্তঃনগর ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। তবে চলতি আগস্টে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০টি নতুন কোচ যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ঢাকা-খুলনা রুটের একটি আন্তঃনগর ট্রেন মোংলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে যমুনা সেতু হয়ে পাবনা রুটে, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর ও ফরিদপুর রুটে এবং ২০২৪ সালে খুলনা-মোংলা রুটে রেল চলাচল শুরু হলেও ইঞ্জিন ও কোচের সংকটের কারণে এসব রুটে পর্যাপ্ত ট্রেন চালু করা যায়নি। এখন পর্যন্ত যমুনা সেতু হয়ে পাবনা এবং খুলনা-মোংলা রুটে কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়নি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা—এই দুই রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাবনা-ঢাকা রুটের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে এবং খুলনা-ঢাকা রুটের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এদিকে, রাজশাহী ও যশোর অঞ্চলের যাত্রীরা বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু, রাজশাহী থেকে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে নতুন কোচ সংযোজন এবং যশোর থেকে ঢাকাগামী একটি প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের শুরু থেকেই যশোর থেকে সকালে ঢাকাগামী ট্রেনের দাবি ছিল, কিন্তু সে প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
অন্যদিকে, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামান খান বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের একাধিক লোকাল ট্রেন ও স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জনস্বার্থে এসব ট্রেন পুনরায় চালু এবং স্টেশনগুলো আধুনিকায়নের দাবি জানান তিনি।
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক বলেন, নতুন ও চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ থাকা স্টেশন ও ট্রেনগুলো চালু করা হবে।