পাবনায় একতা পরিবহনে সাড়ে ৯ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ

শেয়ার করুন

হৃদয় হোসেন নিরবঃ মঙ্গলবার ১ জুন বিকাল ৪ টায় পাবনার টেবুনিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল পরিবহনের দায়ে ৫ জনকে ৪ হাজার করে ২০  হাজার ও বাসের সুপারভাইজারকে ৫ হাজারসহ মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করে টেবুনিয়া স্কুল মাঠে সাড়ে ৯ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহারুল ইসলাম।  সিরাজগঞ্জ থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘একতা পরিবহন’ বাসে করে এসব জাল পাচার করা হচ্ছিল বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালালে ছাদে রাখা মালামালের মধ্যে ১৫টি বস্তা ও কার্টুন পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৪টি বস্তায় ছিল নতুন এবং ১১টি বস্তায় পুরাতন জাল। মোট ২৩৪টি জালের বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

বাসের চালক রাসেল ও সুপারভাইজার মিলন উদ্দিন দাবি করেন, “আমরা ভাড়া পেয়েছি তাই মাল তুলেছি। কোনটা বৈধ, কোনটা অবৈধ তা যাচাই করা আমাদের দায়িত্ব নয়।

সুপারভাইজার আরও বলেন, “প্রতিটি বস্তা ও কার্টুনের ভাড়া ১শ টাকা করে মোট ১ হাজার ৫শ টাকা নিয়ে মালামাল গাড়িতে উঠানো হয়।”

এ বিষয়ে মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুনতাজ আলী বলেন, “এটা আমাদের এলাকার জন্য একটি সতর্কবার্তা। এই ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কাজে জড়াবে না বলেই আশা করছি।

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, “এই জাল এমনভাবে তৈরি যে, মাছ, শাপলা, ব্যাঙ, এমনকি ছোট পোকামাকড়ও এতে ঢুকতে পারলেও আর বের হতে পারে না। এটি জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহারুল ইসলাম বলেন, “একটি ডিম থেকে পোনা জন্ম নিয়ে বড় হয়ে যখন খাদ্যে পরিণত হয়, তখনই তা মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করে। কিন্তু এই ধরনের দুয়ারি (অবৈধ সূক্ষ্ম ফাঁসের) জাল ব্যবহারে সেই পোনা অবস্থাতেই মাছ নিধন করা হয়। এর ফলে একসময় আমাদের নদী, খাল, বিল— কোথাও আর মাছ থাকবে না।  পরিবেশ ও মৎস্য শিল্প রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অতীতেও করেছি, ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” এ অভিযানে আনসার সদস্যের একটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগীতা করে।

উল্লেখ্য, জব্দকৃত সব জাল ধ্বংস করে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

প্রসঙ্গত: এ ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহার শুধু মৎস্য সম্পদের ক্ষতি করে না, বরং দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।

(Visited 37 times, 1 visits today)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *