তারেক খান: পাবনায় সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া আইডি ব্যবহারের মাধ্যমে সমকামীদের কুপ্রস্তাবের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি চক্র নারীদের নামে ভুয়া আইডি খুলে মূলত সুদর্শন তরুণদের টার্গেট করছে এবং তাদের অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সমকামীদের অনেকেই দেখতে একদম নারীদের মতো। যার কারণে অনেক নিঃসঙ্গ তরুণরা তাদের শারীরিক গঠন ও নারীসুলভ আচরণ দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তাদের কুপ্রস্তাবে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সমাজে একটি উদ্বেগজনক প্রভাব ফেলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক তরুণ জানায়, সম্প্রতি তাকে নারীর একটি আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছিল। সে রিকোয়েস্টটি এক্সেপ্ট করার পর মেসেঞ্জারে কথা বলতে বলতে কিছুটা ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ওই আইডি থেকে তাকে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। ভিডিও কলে মেয়েটির গলার স্বর, কথার ধরণ সহ বিভিন্ন আচরণে সন্দেহ হলে ওই তরুণ তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে সে আসলেই মেয়ে নাকি অন্যকিছু? কথোপকথনের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে যে সে আসলে একজন সমকামী পুরুষ। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই তরুণ সঙ্গে সঙ্গেই আইডিটি ব্লক করে দেয় এবং সতর্ক হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শুধু এই তরুণই না সম্প্রতি পাবনায় অসংখ্য কিশোর ও তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ নানাভাবে সমকামীদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে জানা যায়।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কেপি সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাবনায় বর্তমানে ১,৬১৫ জন সমকামী রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জেলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের শরীরে এইচআইভি (এইডস) শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জনই সমকামী। এছাড়া এই চক্রের অনেকেই বিভিন্ন মারাত্মক মাদকে আসক্ত, যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাবনার সুশীল সমাজ মনে করেন, সমকামী চক্রগুলো সমাজে তাদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। তারা সংঘবদ্ধ ভাবে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে তরুণদের টার্গেট করছে এবং তাদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে চলেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়াও তারা ভিডিও কলে কথা বলে তরুণদের বিভিন্নভাবে হ্যারাসমেন্ট করতে পারে। তাই এই বিষয়ে তরুণদের আগে থেকেই সচেতন থাকার আহবান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি। তবে কেউ যদি এই ধরণের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় বা হয়রানির শিকার হয়, তাহলে তারা যেন অবিলম্বে তাদের সাথে যোগাযোগ করে। পুলিশ সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।