তারেক খান: পাবনা শহরের সড়ক ব্যবস্থার নাজুক চিত্র দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিগলি—অধিকাংশ সড়কই এখন ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের সদর হাসপাতাল রোড, মুজাহিদ ক্লাব রোড, পাবনা মেডিকেল কলেজ রোড সহ পৌর এলাকার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পিচ উঠে গেছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও অলিগলিতেও।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকরা। বৃষ্টির কারণে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সদর হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, হাসপাতালে আসা-যাওয়ার জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা খারাপ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় রোগী নিয়ে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর, গাড়ির ঝাকিতে রোগী আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মুজাহিদ ক্লাব রোডের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
পাবনা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের সময় ঝুঁকিতে থাকতে হয়। গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ভয় সবসময়ই থাকে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর এমন অবস্থা থাকলেও স্থায়ী সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। কোথাও কোথাও সাময়িক মেরামত করা হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পাবনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. ওবায়েদুল হক বলেন, “অধিকাংশ সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে। তবে সব রাস্তার কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ কমাতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করবে পৌর কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, একটি জেলা শহরের প্রধান সড়ক ও আবাসিক এলাকার অলিগলির এমন বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না।