রনি ইমরানঃ পাবনায় তরুণ তরুণীরা বই রেখে ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়ছে।মানুষের মাঝে ভার্চুয়াল আসক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে মানুষ ততোই একা হয়ে পড়ছে।বই পড়ার নির্মল আনন্দ মানুষ ভার্চুয়ালে খুঁজে পাচ্ছে না।পল্লী কবি জসিম উদ্দিন বই সর্ম্পকে বলেছেন, বই জ্ঞানের প্রতীক বই আনন্দের প্রতীক।বিশ্বসাহিত্যিক লিও টলস্টয় বলেছেন, জীবনে তিনটি বস্তুই বিশেষ প্রয়োজন বই বই এবং বই।একটি ভালো বই জীবনকে পাল্টে দিতে পারে। বই অমলিন আনন্দের উৎস।কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো বই পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে পাবনার শিশু কিশোররা।ফোন হাতে ভার্চুয়ালে আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা।পাবনায় মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় বই বিক্রি কমে গেছে।মেলায় সেলফি তুলেই ফিরছে অনেকে।বই পড়ার প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলার কারন হিসেবে চতুর্থ বিপ্লবে মোড়ানো ভার্চুয়াল আসক্তিকেই দায়ী করছেন পাবনার বিশিষ্টজন ও বইমেলা সংশ্লিষ্টরা।মেলা ঘুরে দেখা যায় বইস্টলে অনেকেই বই হাতে সেলফি তুলতে ব্যস্ত।ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই বাড়ি ফিরছেন কেউ। মেলায় ঘুরতে আসা ৭ বছরের শিশু ফায়াজ বলেন আগে কখনো সে মেলা থেকে বই কেনে নাই।তার সংগ্রহে কোন বইও নেই।কার্টুনের বই পছন্দ তার তবে সে আরো বেশি পছন্দ করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গেমই খেলতে। মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।তিনি বলেন, একটা সময় বই কেনার জন্য আগে থেকে টাকা সঞ্চয় করে রাখতাম।প্রিয়জনদের থেকে বই উপহার পেতাম।বই উপহার দিতাম।সেই সব দিনগুলো অনেক আনন্দের ছিল।মানুষ ভার্চুয়ালে সেই আনন্দ খুঁজে পাবে না।বইমেলা মাঠে ঘুরে দেখা যায় শিশুরা মাথায় মাথা লাগিয়ে অতি মনোযোগ নিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে গেইম খেলছে।যুবকরা কেউ টিকটকে কেউ ইউটিউবে কেউ রিলস বা ফেসবুকে আসক্ত।কেউ ব্যস্ত সেলফিতে।সামাজিক দায়িত্ববোধ আত্মীয়তার বন্ধন বন্ধুত্ব দূরে রেখে ফোন হাতে তরুণ থেকে বৃদ্ধ যেন এক একটি গ্রহের মত একা হয়ে গেছে। টিকটক ইউটিউব ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠছে তারা।কেউ মানুষকে সাহায্যর নামে অসহায় মানুষটির ছবি তুলে সমাজে নিজেকে মহান ভাবে উপস্থাপনের অসুস্থ চেষ্টা করছে।ভার্চুয়াল আসক্তির করনেই বই পড়ার আনন্দ ও উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে সব শ্রেণী মানুষ।পাবনার সিনিয়র সাংবাদিক সুশীল কুমার তরফদার বলেন একজন অসহায়কে সাহায্য করতে গিয়ে অসহায় মানুষটির ছবি তুলে ভার্চুয়ালে দেয়াটা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। ভার্চুয়াল আসক্তি মানুষকে অসুস্থ করে তুলছে।পাবনার তরুণ সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান মাহমুদ বলেন,বই কেনা বেচা কম।শুধু বই মেলাতে নয় অনেকে বইয়ের লাইব্রেরীতেও যায়না।মানুষ প্রযুক্তি নির্ভর হয়েছে তবে বইয়ের আনন্দ ভাচুয়ালে পাওয়া সম্ভব নয়।বই মেলায় বই কিনতে দেখা যায় পাবনা জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোসাব্বির হোসেন সঞ্জুকে।তিনি বলেন,বই মানুষকে আলোকিত করে।প্রতিটি সমাজে বই পড়ার চর্চা শুরু করতে হবে।শিশুদের অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে দূরে রাখতে হবে এবং সকল শ্রেণীপেশার মানুষদের সোশাল মিডিয়া আসক্তি ও এর ক্ষতিকর দিক থেকে বিরত থাকতে হবে।পাবনা জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাসের আহবায়ক সাংবাদিক খালেদ হোসেন পরাগ বলেন, ভার্চুয়াল আসক্তির করনে বই বিক্রি কমে গেছে।তবে মেলায় আগত অতিথিরা বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করে মানুষদের বই পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে চলেছে।নীল আকাশ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আর কে আকাশ বলেন এবার বই বিক্রি কম তবে আশাকরি আগামীতে বই বিক্রি বাড়বে।মেলায় প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা ও নতুন নতুন বইয়ের প্রকাশনী উৎসব থাকছে। আলোচনাসভায় বই পড়তে শিশু ও তরুণদের উৎসাহিত করছেন বক্তারা।পাবনা শহরের প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় মেলার কার্যক্রম চলবে বলে জানায় বইমেলা সংশ্লিষ্টরা।
ফেসবুক আসক্তিতে বই বিমুখ পাঠকরা
(Visited 43 times, 1 visits today)