তারেক খান: পাবনায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আলোচনায় আসা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহকে দায়িত্ব গ্রহণের আড়াই মাসের মাথায় বদলি করা হয়েছে। তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফকে পাবনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাবনায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেন এসপি মো. ছুফি উল্লাহ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার নেতৃত্বে মাত্র আড়াই মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং থানা পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একাধিক মাদকচক্রের কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। একসময় যেসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল, সেসব এলাকায় পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলেও জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সচেতন মহলের অনেকের মতে, পাবনার দীর্ঘ ইতিহাসে মাদকের বিরুদ্ধে এত ব্যাপক, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক অভিযান খুব কমই দেখা গেছে। তাদের মূল্যায়নে, এসপি মো. ছুফি উল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলার মাদক সিন্ডিকেটের শক্ত ভিত নড়ে যায় এবং অপরাধচক্রের সদস্যরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
এদিকে নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আবু আশ্রাফের নেতৃত্বেও জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করছেন পাবনাবাসী।