লিচুর রাজধানী পাবনায় বাম্পার ফলনের আশা, হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে

শেয়ার করুন

তারেক খান: লিচুর রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাবনায় এবার গাছে গাছে লিচুর সমারোহ দেখা গেছে। মৌসুমের শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষীরা। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বাম্পার ফলন ও ভালো লাভের আশা করছেন তারা। ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে দেশী জাতের লিচু। আর কোরবানির ঈদের পর বাজারে মিলবে বোম্বাই, চায়নাসহ অন্যান্য জাতের লিচু। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার কয়েকটি লিচু বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার ডালে ডালে দোল খাচ্ছে লাল টকটকে রসালো লিচু। সেইসঙ্গে দোলা দিচ্ছে কৃষকদের মনেও নতুন স্বপ্ন। কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে আসবে দেশী জাতের লিচু। অন্যদিকে সবুজ রঙে থাকা বোম্বাই, মোজাফফরীসহ অন্যান্য জাতের লিচু বাজারে আসবে ঈদের পর। ফলে পাবনার লিচু বাগানগুলো এখন যেন লাল-সবুজের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পাবনা জেলায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ করা হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।

চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেই বাগানজুড়ে প্রচুর মুকুল দেখা যায়। তখন থেকেই ভালো ফলনের আশা করতে থাকেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক। গেল বছর আশানুরূপ ফলন না পেলেও এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।

লিচু চাষী আব্দুর রহিম বলেন, “এবার মুকুল আসার পর থেকেই আমরা সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় সবার মুখে হাসি ফুটেছে। গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখবো বলে আশা করছি।”

আরেক চাষী মহির উদ্দিন বলেন, “পাবনার লিচুর সুনাম ও চাহিদা সারাদেশেই রয়েছে। গত বছর লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে এবার আমার ৫০টি লিচু গাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছি।”

লিচু চাষী নুর হোসেন বলেন, “দেশী জাতের লিচু আগে পাকে, সেটাই এখন বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আর বোম্বাই, মোজাফফরীসহ অন্যান্য জাতের লিচু কোরবানির ঈদের পর বাজারে আসবে।”

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক বলেন, “আমরা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম। তবে ভালো ফলন হওয়ায় আশা করছি উৎপাদন ৫০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। কৃষি বিভাগ সবসময় চাষীদের পাশে ছিল। চাষীরাও সঠিকভাবে গাছের পরিচর্যা করেছেন। পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।”

(Visited 9 times, 9 visits today)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *