তারেক খান: দিনের ব্যস্ততা শেষে রাত নামলেই যেন অন্ধকারে হারিয়ে যায় জেলা শহর পাবনা। প্রধান সড়ক, হাইওয়ে সংযোগ সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকার অধিকাংশ রাস্তায় পর্যাপ্ত রোড লাইট না থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, হাইওয়ে সংযোগ সড়ক এবং আবাসিক এলাকার ভেতরের বহু রাস্তায় রোড লাইট নেই। কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলেও লাইট অচল হয়ে পড়ে আছে, আবার অনেক এলাকায় কখনোই রোড লাইট স্থাপন করা হয়নি। ফলে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। যানবাহনের হেডলাইট ছাড়া চলাচলের আর কোনো আলোর ব্যবস্থা থাকে না।
চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অন্ধকারের কারণে ড্রেন থেকে উঠে আসা সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড় সহজে চোখে পড়ে না। একই সঙ্গে রাস্তার খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ ও জলাবদ্ধতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে হাইওয়ে সংযোগ সড়কের মোড় এবং তুলনামূলক নির্জন এলাকাগুলোতে আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করেন সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, অন্ধকারের কারণে সন্ধ্যার পর ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, “এখন বর্ষা মৌসুম চলছে। রোড লাইট না থাকায় রাতে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অন্ধকারে ড্রেন থেকে উঠে আসা সাপ-পোকামাকড় চোখে দেখা যায় না, আবার রাস্তার খানাখন্দও বোঝা যায় না। ফলে যে কোনো সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এই ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়। শহরের বিভিন্ন মোড়, বিশেষ করে হাইওয়ে সংযোগ সড়কের মোড়গুলোতে রোড লাইট না থাকায় সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন কোনো দুষ্কৃতকারী ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধ ঘটাবে, সেই আশঙ্কাও থাকে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রোড লাইট স্থাপন ও অচল লাইট মেরামতের দাবিতে বহুবার পাবনা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষায়, “বারবার বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তারা যেন শুনেও শোনে না, দেখেও দেখে না।” পৌর কর্তৃপক্ষের এমন নিষ্ক্রিয়তায় নাগরিক দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, পার্শ্ববর্তী অনেক জেলা শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় আধুনিক রোড লাইটে আলোকিত হলেও পাবনা কেন এখনো অন্ধকারে থাকবে? একটি জেলা শহরে এমন পরিস্থিতি শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, জননিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সড়ক আলোকায়ন কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটি নিরাপদ যোগাযোগ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্যাপ্ত রোড লাইট থাকলে রাতের শহরে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতাও কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে পাবনা পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শহরের প্রধান সড়ক, হাইওয়ে সংযোগ সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং আবাসিক এলাকার অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে দ্রুত রোড লাইট স্থাপন, অচল লাইট মেরামত এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পাবনাকে একটি নিরাপদ ও আলোকিত শহরে পরিণত করবে।