তারেক খান: মধ্যরাতমধ্যরাত। বাড়ির পথে ছুটছিল একটি রিকশা। হঠাৎ পথরোধ করে একদল যুবক। মুহূর্তেই জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে। এরপর পরিবারের মোবাইলে আসে ভয়ংকর বার্তা— “৫ লাখ টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে।” তবে অপহরণকারীদের সেই পরিকল্পনা বেশি দূর এগোতে পারেনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পাবনা সদর থানার যৌথ অভিযানে এই সাফল্য আসে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেব (১৫) পাবনা মহিম চন্দ্র জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৩ জুলাই পারিবারিক কারণে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তাকে না পেয়ে ২৯ জুলাই পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২১৪) করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে ইন্দ্রজিৎকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পথে পাবনা সদর থানার দিলালপুর বেলতলা সড়কে আহম্মেদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রিকশার গতিরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। এরপর জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ইন্দ্রজিৎকে হত্যার হুমকিও দেয় অপহরণকারীরা।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ভিকটিমকে ঘটনাস্থলেই ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তাৎক্ষণিক অভিযানে ইন্দ্রজিৎকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আফনান আহম্মেদ আবির (২১), দিলালপুর কফিলউদ্দিনপাড়া, পাবনা পৌরসভা; মো. নাজমুস সাদাত নাফি (১৯), শালগাড়িয়া, ওয়ার্ড-৭, পাবনা সদর; মো. সানজিদ হাসান সুপ্ত (১৯), দুর্গাপুর, আমিনপুর, পাবনা; মো. রাকিব হোসেন (১৯), দিলালপুর কফিলউদ্দিনপাড়া, পাবনা পৌরসভা এবং মো. বিশাল শেখ সাদ (২২), দিলালপুর, ফায়ার সার্ভিসের পেছনে, পাবনা পৌরসভা।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. আকাশ (২৩) ও মো. সাদ (২৪)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান।
এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া কিশোরের মা রিতা রাণী দাস রায় পাবনা সদর থানায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, অপরাধ দমন, অপহরণ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।