পাবনায় পদ্মবিলের অপরূপ সৌন্দর্য: হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতিপ্রেমীদের
পদ্ম-শাপলা-শালুকে সেজেছে পাবনার চাটমোহরের ডিকশির বিল। বর্ষার পানিতে বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর তার বুকজুড়ে ফুটে থাকা পদ্ম-শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। স্থানীয়দের কাছে ডিকশির বিল এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘পদ্মবিল’ নামে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ ছুটে আসছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ও ফৈলজানা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী প্রায় ১৫টি গ্রামজুড়ে বিস্তৃত ডিকশির বিল। জেলার প্রধান বিল চলনবিল হলেও স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পদ্ম-শাপলার সৌন্দর্যের কারণে ইতোমধ্যে ‘পদ্মবিল’ হিসেবে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে এটি।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় বিলটির রূপ। কখনো বিস্তীর্ণ জলাধার, কখনো পাখির কলরব, আবার কখনো সবুজ ফসলের সমারোহ—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যে বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে ধরা দেয় ডিকশির বিল। আর বর্ষায় পদ্ম, শাপলা ও শালুকের সমারোহে বিলটি যেন হয়ে ওঠে প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক নান্দনিক ক্যানভাস।
এ বছর পর্যাপ্ত পানি না আসায় বিলটি কানায় কানায় পানিতে পূর্ণ হয়নি। তবে পানির স্বল্পতাও এর সৌন্দর্যে খুব একটা ছেদ ফেলতে পারেনি। বিলের বিভিন্ন অংশে ফুটেছে পদ্ম, বেড়ে উঠেছে শাপলা ও শালুক। পানির ওপর ফুটে থাকা ফুল আর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষায় ডিকশির বিলে ১৫ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত পানি থাকে। বিলপাড়ের মানুষ রাস্তা থেকেই নৌকায় উঠে বিলের ভেতরে ঘুরে বেড়ান। এ বছর বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত পানি রয়েছে।
ডিকশির বিলপাড়ের বাসিন্দা ও মাঝি আমজাদ হোসেন বলেন, “এ বছর বিলের বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট উচ্চতায় পানি আছে। পানি যতটুকুই থাকুক, বিলজুড়ে পদ্ম, শাপলা ও শালুকের সমারোহ রয়েছে। স্থানীয়রা ডিকশির বিলকে ‘পদ্মবিল’ নামে ডাকছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম বলেন, “প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পদ্মবিলে আসছেন। নৌকায় করে বিল ঘুরে দেখছেন।”
কুষ্টিয়া থেকে পদ্মবিল দেখতে আসা কলেজ শিক্ষক শরিফ শাহরিয়ার বলেন, “বন্ধুদের কাছে গল্প শুনে পদ্মবিল দেখতে এলাম। চোখ জুড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির এক অপরূপ মেলবন্ধন এই পদ্মবিল।”
শরিফ শাহরিয়ারের মতো প্রতিদিনই অনেক মানুষ পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছুটে আসছেন পদ্মবিলে। আসছেন অনেক ব্লগারও। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
তবে বিলের পাড়ে যাওয়ার রাস্তার অবস্থা নাজুক হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় দর্শনার্থীদের। কাদা-পানি মাড়িয়ে অনেককে বিলের কাছে যেতে হয়। ফলে সৌন্দর্য উপভোগের ইচ্ছা থাকলেও অনেকে সেখানে যেতে পারেন না।
ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, “চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামজুড়ে ডিকশির বিলটি পাবনার অন্যতম প্রধান বিলাঞ্চল। বিলপাড়ের মানুষ শুকনো মৌসুমে ফসলের আবাদ আর বর্ষায় মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিলে নৌকা ভ্রমণ বেশ আনন্দের বিষয়।”
স্থানীয় কয়েকজন পরিবেশবাদী জানান, বছরে প্রায় চার মাস ডিকশির বিলে পানি থাকে। এ সময় বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ ও জোরালো নজরদারি প্রয়োজন।