তারেক খান: গভীর রাত। কোথাও ডাকাতির পরিকল্পনা, কোথাও মাদকের চালান পৌঁছানোর প্রস্তুতি। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই হাজির হচ্ছে পুলিশ। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তদন্ত নয়, বরং অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ—এই কৌশলেই বদলে যেতে শুরু করেছে পাবনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ।
জেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পরই অপরাধ, অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর নির্দেশনায় জেলার ১১টি থানায় প্রতিদিন পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ চিরুনি অভিযান। মাদক কারবারি, জুয়াড়ি, কিশোর গ্যাং ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলছে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান।
পুলিশ সূত্র জানায়, দৃশ্যমান অভিযানের পাশাপাশি শক্তিশালী করা হয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সোর্স নেটওয়ার্ক। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা তথ্যদাতাদের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হচ্ছে পুলিশ।
সন্ধ্যা ও গভীর রাতে মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কে টহল জোরদার করায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি পুলিশের। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতারেও সাফল্য পেয়েছে জেলা পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, পুলিশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তাবোধ বেড়েছে। অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ফিরেছে স্বস্তি।
পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, “পাবনাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে জেলা পুলিশ ও ডিবি সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
স্থানীয় সুধীজনের মতে, পেশাদার নেতৃত্ব ও জনমুখী পুলিশিংয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে পাবনা আগামী দিনে দেশের অন্যতম নিরাপদ জেলায় পরিণত হতে পারে।