তারেক খান: আগামী মাসের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। জ্বালানি লোড সম্পন্ন হওয়ার পরপরই আগামী মার্চ মাসে সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটমের কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী মাসের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড সম্পন্ন করা হবে। এর পর মার্চের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রথম ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেন। তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রকৌশলীদের ধন্যবাদ জানান।
এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। ইউনিটটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি বছর প্রথম ইউনিট থেকে এবং আগামী বছর একই সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।