পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারে পাঁচটি স্বর্ণের দোকানে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে ১০–১২ জনের একটি ডাকাত দল দোকান ও সিন্দুকের তালা ভেঙে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ লাখ টাকা লুট করে। পরে দোকান মালিক রতন কর্মকারের বাসায় হামলা চালিয়ে অতিরিক্ত ১০ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ লাখ টাকার মতো নগদ অর্থ নিয়ে যায় ডাকাতরা।
ঘটনার সময় ডাকাত দল নৈশ্য প্রহরীসহ দোকান মালিকের পরিবারের সদস্যদের বেঁধে নির্যাতন করে। দোকান মালিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ফোন করে সহযোগিতা চাইলেও কেউ উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি। পরে পুলিশকে ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট সময় লাগে। তবে এর আগেই ডাকাতরা গুমানি নদীতে অপেক্ষমাণ স্পিডবোটে করে পালিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত দশটার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার পর সুযোগ বুঝে ডাকাত দল প্রথমে নৈশ্য প্রহরীদের বেঁধে ফেলে। এরপর পর্যায়ক্রমে উত্তম জুয়েলার্স, মধু জুয়েলার্স, মা জুয়েলার্স, আখি জুয়েলার্সসহ পাঁচটি দোকানে তালা ভেঙে লুটতরাজ চালানো হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঐতিহ্যবাহী অষ্টমনিষা ও মির্জাপুর বাজার চলনবিল অঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্বর্ণ ও ধান ব্যবসার জন্য এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সমৃদ্ধ। ডাকাতির ঘটনা এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও সিআইডি পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, “দোকান মালিকরা স্থানীয়দের ফোন করেছিলেন। এলাকাবাসী চাইলে ঘটনাটি প্রতিহত করা সম্ভব ছিল।”
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডাকাত দলের পরিচয় উদঘাটন ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।