তারেক খান: রাত যত গভীর হয়, ততই যেন বদলে যায় পাবনার কিছু অলিগলির চেহারা। অন্ধকারের আড়ালে নীরবে হাতবদল হয় মাদক, আর তার সঙ্গে বদলে যেতে থাকে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। যে তরুণের হাতে থাকার কথা ছিল বই, কলম কিংবা কর্মের স্বপ্ন—তার হাতে আজ দেখা যাচ্ছে মাদকের নেশা। সেই নেশাই ধীরে ধীরে ঠেলে দিচ্ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের অন্ধকার জগতে।
সচেতন মহলের মতে, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন ধরনের কিছু মাদকও তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেগুলোর অনেকটাই এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরের বাইরে। এর ফলে শুধু ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে কিছু আসক্ত ব্যক্তি চুরি, ছিনতাই, খুন, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইতোমধ্যে পাবনা জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, তাদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও জীবনযাত্রার প্রতি নজর রাখতে হবে এবং নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ প্রতিটি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সচেতন নাগরিকরা।
তাদের মতে, সমাজের প্রতিটি স্তরে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে উঠলেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব।
এদিকে, ‘মশাল’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাবনায় মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংগঠনটির এ প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সমাজের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনও একইভাবে এগিয়ে এলে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।
মাদক শুধু একজন মানুষকে ধ্বংস করে না; এটি ধ্বংস করে একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাই এই লড়াই শুধু পুলিশের নয়—এটি আমাদের সবার।