তারেক খান: ঈদুল আজহার ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীতে আনন্দভ্রমণে বের হয়েছিলেন পাবনার রিফাত হাসান রক্তিম (৩৫)। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। নৌকা থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার (৩০ মে) সকালে পদ্মা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।
রিফাত পাবনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিলালপুর এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন বন্ধু মিলে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি নৌকা ভাড়া করে পদ্মা নদীতে ঘুরতে বের হন। নৌকায় অবস্থানকালে তারা মদ্যপান করছিলেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে সবাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় নৌকার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রিফাত ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।
তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তার আরও দুই বন্ধু নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে পদ্মার প্রবল স্রোতে তিনজনই তলিয়ে যেতে থাকেন। স্থানীয়দের খবর পেয়ে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও রিফাত নিখোঁজ হয়ে যান।
লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন জানান, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও প্রবল স্রোতের কারণে মাঝনদীতে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দল অভিযানে যোগ দেয়।
দীর্ঘ প্রায় ২০ ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে শনিবার সকালে ডুবুরি দল পদ্মা নদী থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় রিফাতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।